
Nurul Haque Nur
Bangladeshi activist and politician
Date of Birth | : | 30 January, 1991 (Age 34) |
Place of Birth | : | Patuakhali District, Bangladesh |
Profession | : | Politician, Activist |
Nationality | : | Bangladeshi |
Social Profiles | : |
Facebook
Twitter
Instagram
|
নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur) হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) এর সভাপতি এবং ছাত্র, যুব ও প্রবাসী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক। ২০১৮ সালে ছাত্রনেতা থাকাকালীন অবস্থায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। তিনি রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।
প্রারম্ভিক জীবন
নুরুল হক নুর বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বৃহত্তর চর কাজল ইউনিয়ন বর্তমান চর বিশ্বাস ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইদ্রিস হাওলাদার একজন ব্যবসায়ী এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও মাতার নাম নিলুফা বেগম। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে নুর দ্বিতীয়। নুর পটুয়াখালীর চর বিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১০ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকার উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন।
রাজনৈতিক জীবন
নুরুল হক নুর বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মুহসিন হলের উপ-মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। স্কুল জীবনে তিনি ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
জুন ২০২০ সালে নুর তরুণদের নেতৃত্বে একটা নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন।
অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকায় পল্টনের প্রিতম জামান টাওয়ারে অবস্থিত দলটির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নাম ঘোষণা করেন নুরুল হক নুর। ২০২৩ সালের জুন মাসে গণঅধিকার পরিষদের রেষারেষি জেরে দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনকে অব্যাহতির ঘোষণা আসে আহবায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার পক্ষ থেকে। ২০২৩ সালের ১০ই জুলাই গণ অধিকার পরিষদের একাংশের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর।
হামলা
- ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশের কর্মসূচি দেয় নুরুল হক নূর। ওই সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে৷ সংঘর্ষে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনে নুর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সদস্যদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কর্মীরা হামলা করে। এতে নুরসহ তার সংগঠনের একাধিক ছাত্র আহত হয়।
- ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে এবং হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্য এবং দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়৷
- ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নুর বিভিন্ন আন্দোলনে সাতবার হামলার শিকার হন।
- ২ আগষ্ট ২০২৩ সালে ছাত্র অধিকার পরিষদের ডাকা সমাবেশে যোগ দিতে শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসির দিকে মিছিল নিয়ে গেলে হামলার স্বীকার হন নুর, এতে নুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নুরের দাবি অনুযায়ী তাদের উপর হামলা করেছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, যদিও এতে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতারা।
- ২৯ আগষ্ট ২০২৫ সালে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া খেয়ে তিনি বিভিন্ন পক্ষের আক্রমণের শিকার হন। নুরুল হক নূরের সাথে গণঅধিকার পরিষদের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও আহত হন। রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সমালোচনা
২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন চলাকালীন রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের অভিযোগে নুরুল হক সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়া ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে গোপন বৈঠক করে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার উৎখাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারণে অর্থসাহায্য আহ্বান করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসের মাধ্যমে দান সংগ্রহ করার কারণে তিনি বিশেষভাবে সমালোচিত।
গ্রেফতার
২০২০ সালে ২১ সেপ্টেম্বর নূরসহ সাত জনকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের মামলা করেছিল। সেই মামলার বিরুদ্ধে শাহবাগে বিক্ষোভ করছিলেন নুরুল হক নুর ও সাধারণ ছাত্র পরিষদ নামে তার সংগঠনের সদস্যরা। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের আটক করা হয় এবং কিছুক্ষন পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় নূরকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। নুরুল হক নুরকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে তিনি ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন অভিযোগ করা হয়। নূর রিমান্ডে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
নুরুল হক নুর ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৬ সালে চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাতেম আলী মাস্টারের মেয়ে মারিয়া আক্তার লুনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। লুনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে এই দম্পতির দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান আছে।
কিংবদন্তি
৮ জানুয়ারি ২০২১ সালে যুব অধিকার পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা শাখা এক প্রতিনিধি সভায় নুরকে "গণবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করে একটি ক্রেস্ট প্রদান করে।
Quotes
Total 0 Quotes
Quotes not found.